পরিযায়ী শ্রমিক।
এরা এখন মিডিয়া বাজারে হট টপিক;
লকডাউনে কিভাবে কষ্ট করে বাড়ি ফিরছে, খেতে পাচ্ছেনা আরো কত কি!সোস্যাল মিডিয়াতেও এদের নিয়ে দুঃখের স্রোতে ভাসমান। আমিও দুঃখ পাচ্ছি। নানা কবিতা আর্টিকেল আরো কত কি সব কিছুর প্রধান আকর্ষণ বা কেন্দ্রবিন্দু এখন এনারা।
বাহ! সত্যি, মানুষ এদের নিয়ে ভাবচ্ছে, কিন্তু একটা প্রশ্ন ??
ভীষণ ভাবাচ্ছে আমাকে ব্যক্তিগত ভাবে- এই শ্রমিকরা কি আজ প্রথম যে এভাবে কষ্ট করছে? আজই কি প্রথম যে তাদের সন্তানদের নিয়ে অনাহারে মড়ছে ?
নাহ আজ প্রথম নয়-
সময় মানুষকে ভাবায়, সেই নিরীহ শ্রমিকদের কষ্টটা আজ প্রথম নয় যে অনাহারে আত্মহত্যা করছে, আজ প্রথম নয় যে বিপর্যস্ত হয়ে মাইলকে মাইল হঁটেছে, তাদের দুধের শিশুটাকে নিয়ে ,
তখন কিন্তু কোনো মিডিয়া তাদের খবর কভার করতে আসেনি , ভাবায়নি তখন কোনো সোস্যাল মিডিয়ার পোস্ট ওয়াল!
ভাবায়নি?
তখনো অনেক অসহায় মায়েরা তাদের শিশুকে মাইল কে মাইল পথ ধরে হাঁটিয়েছে বলেছে –
“এই তো সোনা চলে এসেছি।”
তখনো অনেক অসহায় মানুষের খিদেতে মৃত্যু হয়েছে সেই রেল লাইনে।
কিন্তু তখন কেউ ভাবায়নি- কেউ ভাবেনি…
আসলে আমরা বড্ড হুজুগে মানুষ, টপিক সন্ধানী মানুষ নিজেদের সোস্যালে বেশি চর্চা করাতে ভালোবাসি।
তাই আজ সুযোগ এসেছে- সুযোগ করে দিয়েছে
লকডাউন নামক বিশ্বত্রাস নায়ক । তাই তার সান্নিধ্যে এসে কিছু মানুষের হঠাৎ দয়া জাগরিত হয়েছে এই শ্রমিক শ্রেণির প্রতি!
কিন্তু কোনো একসময় এই মানুষরাই শ্রমিক শ্রেনিদের ক্রীতদাসের উপমায় অপমানিত করতে হয়তো বাঁধেনি।
আমরা সাম্যবাদের ভাবনায় যতই জ্ঞান কবচাই,
দিনের শেষে মানতেই হয় আর বলতেই হয়-
মালিক শ্রেণি ও শ্রমিক শ্রেণি।
দেখতেই হয়- কেউ আসে উড়োজাহাজে
আর কেউ আসে মৃত্যুমিছিলের পথ ধরে।
আসে কিন্তু সবাই ।
আর সমাজের সেই বুদ্ধির ঠিকাদাররা- সেই বুদ্ধিজীবিরা তারাও আসে ঠিকই…
তবে, শ্রমিকের মৃত্যুমিছিলে যোগ দিতে নয় ,
শ্রমিকের মৃত্যু যাত্রায় মেকি সমবেদনার মোমবাতি আর নিজস্বীর অবয়বে।
আসে ঠিকই!
আর আজ, কত দয়া, কত দুঃখ,
এদের এই দুঃখ দেখে দুঃখও বেজায় বিদ্রুপ মনে করছে নিজেকে।
দয়া করে এবারে এই প্রহসন গুলো বন্ধ করুন ,
ওরা শ্রমিক- জোকার নয়;
ওদের জীবন জীবিকা নিয়ে আপার রঙ্গ করার দরকার নেই…
হয়তো লকডাউন একদিন উঠে যাবেই ,
এই বিশ্বত্রাস ভাইরাস ও একদিন ইতিহাসের পাতায় থেকে যাবে ভাঙ্গা চিড়ের দাগের মত ।
কিন্তু,
সেই শ্রমিক শ্রেণি সেদিন ও হেঁটে যাবে তার অসহয়তার ভাগ্যের রেখা ধরে, সেদিন কোনো মা তার সন্তানকে নিয়ে মাইলকে মাইল পথ হেঁটে যাবে নিজের আত্মমরিচীকার পথ ধরে।
কিন্তু, সেই দিন মিডিয়ারা আর থাকবেনা তাদের hot cake Breakingnews করার জন্য ।
কারণ, তারা শ্রমিক-
নতুন নাম; পরিযায়ী শ্রমিক

: প্রিয়াঙ্কা পিহু কর্মকার, খড়দহ, কল্যাণনগর
ভায়া- পানশিলা
কোল-৭০০১১২