অনাড়ম্বর জীবন হতে পারতো
ফড়িংয়ের মতো, অথবা কাঠবেড়ালির।
তবুও!
শিকড়ের বলিষ্ঠতায় ছড়াতে চেয়েছি দুই হাত।
হাতের মুঠোয় ধরেছি ধরণীর মাটি।
যে মাটিতে জন্মেছিল ঘাসপোকা,
খুঁটে খুঁটে খেয়েছি আর ছুটে গেছি।
চঞ্চলতায় পাখনা মেলেছি আকাশে,
ডানা ভারী হবার পর জিরিয়ে নিয়েছি কোন রমণীর শরীরে।
সে আমাকে ভেবেছিল অন্যগ্রহের।
কারণ পৃথিবীর পোশাক খুলে রেখে
গোটা চরাচর ঘুরেছি ছদ্মবেশে।
চিনতে পেরেছিল কিছু শামুকের দল,
যারা পিছিয়ে পড়েছে বলে ফিরে দেখেনি আর।
সবাই এসেছে আজ , দেখা হয়ে যাবে
শ্যাওলা ধরা ছাদের পাঁচিলে!
ঘুঘুর ঘর ভাঙা গোধূলি আলোয়,
বাসা ভুলে যে পাখি বসে আছে তারে।
অপেক্ষা ? অথবা অভিমানে,
জিরিয়ে নিচ্ছে নরম পালক।
আর রাজপথ পেরিয়ে ঘরমুখী সেই খরগোশ ও কচ্ছপ!
গতিবেগের তফাৎ আজ সমানুপাতিক ,
দেখা হয়ে গেল নিজের সাথে অনেক দিনের পরে!

: সমরেশ চৌধুরী