কেমন আছে বাংলা ভাষা?

আপনার কাছে কি ‘বাংলাভাষা’ গুরুত্বপূর্ণ?আপনিও কি খুনি নন?

“হে বঙ্গ ভান্ডারে তব বিবিধ রতন,তা সবে অবোধ আমি অবহেলা করি” – মাইকেল মধুসূদন দত্ত

এই কথা গুলো এখনও একই রকম ভাবে প্রাসঙ্গিক।অন্তত আমার তো সেটাই মনে হয়। কেমন আছে আজ বাংলা ভাষা? এই যে আপনি আমি ও আরো বাঙালিরা নিঃশাস-প্রশ্বাস এর মতো যে ভাষা কে ব্যবহার করি। কেমন আছে সে? এতটা পড়ার পর আপনি নিশ্চই টুক করে ভেবে নিলেন সেই আবার একঘেয়ে কচকচি এবং এটাও ভেবে নিলেন আজ কি ভাষা দিবস টিবস নাকি।

না একদম ই ঠিক জানেন।আজ ভাষা দিবস নয়। আজ ভাষা দিবস নয় বলেই সবার চোখে আঙ্গুল দিয়ে কিছু দেখাবো। কিছু সহজ সত্যি কথা তুলে ধরতে আজ এই বিষয়ের অবতারণা। ভাষা কে কিসের সাথে তুলনা করা হয় জানেন? বলা হয় ভাষা হলো বহতা নদীর মতো।সে শুধু বয়ে যায় থেমে থাকে না।থেমে থাকলেই তার আয়ুষ্কাল কমে আসে। এই বিষয়ে কয়েকটা দারুন মজাদার ব্যাপার বলা যাক।

আজকাল ইংরেজি ভাষার প্রসার ও ব্যাপ্তি বিশাল।কোনোরকম ভাবেই এই ভাষার সর্বজনগ্রাহ্যতা কে দূরে সরানো যাবে না।যে জোর করে সেই চেষ্টা করবেন সময়ের স্রোতে তিনি মুছে যেতে বাধ্য। এবার দেখুন ভালো কর্মজীবন ও বাহ্যিক দেখনদারিতার জন্য আজকাল বেশিরভাগ পরিবারের মানুষজন তাদের সন্তানদের ইংরেজি মাধ্যমে পড়াশোনা শেখান।। কিন্তু বেশিরভাগ ইংরেজি মাধ্যমে বাংলা কে বড়ো হেয় করা হয়। একজন বাঙালির সন্তান অ,আ,ক,খ এর আগে শেখে A,B,C,D।সে মা কে মা বলে না শেখে মাম্মি বলতে। বাবা কে বলে পাপ্পা।আমার বক্তব্য হচ্ছে ইংরেজি মাধ্যমে পড়াশোনা করেও বাচ্চা তো বাংলা ভাষাটাও শিখতে পারে।তাতে দোষ কোথায়। তারা বেশিরভাগ “সহজ পাঠের” মতো চমৎকার বই দিয়ে তাদের শিক্ষালাভ শুরু করে না। যখন তার হাতে সেই বইটার রঙচঙে সংস্করণ পৌঁছায় ততদিনে সেই ভাষাটা যে তার “সেকেন্ড ল্যাঙ্গুয়েজ” বা “থার্ড ল্যাঙ্গুয়েজ” এই ধারণা টা তার মাথায় গেঁথে দেওয়া হয়েছে।

আমরা যখন সাধারণ কথা বলি আজকাল একে ওপরের সাথে কটা বাংলা শব্দ ব্যবহার করি? যতগুলো করি, তার দ্বিগুণ বেশি শব্দ আমরা ইংরেজির ব্যবহার করি। এর ফলে কি হচ্ছে? যেমন ধরুন “জন্মদিন” এই শব্দটা কিন্তু শুনতে একদমই খারাপ শোনায় না। এবং এইটা ব্যবহার করলে আপনার গায়ে ফোসকা পড়বে বা আপনার সমাজে প্রভাব কমবে তা কিন্তু নয়।

তবুও “জন্মদিন” শব্দটার ব্যবহার কত কমে এসেছে দেখেছেন। আজকাল ছোট ছোট বাচ্চারাও কেউ খুব একটা বলে না যে আজ আমার জন্মদিন। এখন সবাই বলে আজ আমার বার্থ ডে আছে । এবার আরো কিছুকাল পরে শব্দটাই আর থাকবে না। তার জায়গা অধিকার করে নেবে বার্থডে। এরকম আরো কয়েকশো শব্দের সাথে হচ্ছে। তারা হারিয়ে যাচ্ছে। এর পরে এমন একটি প্রজন্ম আসবে যারা এই শব্দগুলো চিনবেই না কখনো।

এবার আপনি যদি সেইরকম ভাবে মানে ওই বাংলা ইংরেজি মিশিয়ে কথা না বলেন বা আপনার লেখাকে সমৃদ্ধ না করেন তাহলে আসতে আসতে লেখার ক্ষেত্রে আপনার পাঠক সংখ্যা ও আপনার কথা শোনার মানুষ কমবে। অর্থাৎ চলতি ভাষায় “আপনার বাজার থাকবে না”।

যারা ধৈর্য্য ধরে এতটা পড়লেন তারা ভাবছেন এতে আবার কি রে বাবা। এ তো কোন আধুনিক লেখা লিখছে না বা সেই একঘেয়ে কথাই বলে চলেছে।ঠিক আমি পুরোনো কথাই বলছি কারণ এগুলোর প্রয়োজন এখনো শেষ হয় নি।

আমরা এখনও যুগের হাওয়ায় গা মিশিয়ে চলছি,কিন্তু আমাদের হাতেই খুন হয়ে যাচ্ছে আমাদের মাতৃভাষা।পারলে চেষ্টা করুন একে বাঁচানোর ।ইংরেজি বর্জন করতে বলছি না তবে বাংলার ব্যবহার বাড়াতে বলছি। কে না জানে, ভাষার আত্মা হলো সেই ভাষার মানুষজন।আপনিও পারবেন এই লড়াইতে বাংলার পাশে থাকতে। অনুরোধ করলাম।

: কৌস্তভ রয়, বইকাল সম্পাদকমন্ডলীর সদস্য

Published by B O I K A A L

লেখার স্বত্ব সম্পূর্ণভাবে লেখকের; কারোর থেকে অনুপ্রেরণা নিয়ে না অনুকরণ করে সে দায় বা দায়িত্বটি বইকাল ব্লগ নিতে অপারগ কেননা বিশ্বাস বস্তুটির ওপর ভর করে আমাদের পথ চলা শুরু; এটুকু আমাদের মার্জনা করা হবে আশা করি। যতিচিহ্ন সংক্রান্ত ব্যাপারে সম্পাদক কাজ করলেও লাইন স্পেশিং বা বানানের দায়ভার সম্পূর্ণ লেখকমন্ডলীর। ধন্যবাদ...❤

Leave a comment

Design a site like this with WordPress.com
Get started