গুচ্ছকবিতা

স্বপ্ন

——-

(১)

পাড় ভাঙ‌তে ভাঙ‌তে স্বপ্নগু‌লো ঘোলা জ‌লের ম‌তো ঢু‌কে প‌ড়ে

আমার অন্ধকার ঘ‌রে।

আ‌মি নি‌জের খোসা ছাড়া‌তে ছাড়া‌তে তোমার সাম‌নে গি‌য়ে দাঁড়াই,

আঁশফ‌লের ম‌তো ধূসর আমার ক‌য়েকটা সুখ মু‌খে তু‌লে‌ নি‌য়ে

তু‌মি থু থু করে ফে‌লে দাও তেতো ব‌লে।

চ‌ব্বিশটা মৃত সাঁঝবা‌তিস্তম্ভ পে‌ড়ি‌য়ে আন‌ন্দের প্রাচীন রাজবা‌ড়ির

ধ্বংসাব‌শে‌ষের সাম‌নের জঙ্গ‌ল থে‌কে ভে‌সে আসা বাদু‌রের

অট্টহা‌সিতে থরথর ক‌রে কেঁ‌পে ও‌ঠে আমার ঘর।

তু‌মি আপেল খে‌তে খে‌তে মিলি‌য়ে যাও অন্ধকা‌রে।

চাঁ‌দের শরীর থে‌কে সাদা রঙ তু‌লে নি‌য়ে কারা যে‌নো

মা‌খি‌য়ে দেয় আমার চাদ‌রে।

একটা মুমূর্ষু জ্যোৎস্না পুড়‌তে পুড়‌তে ছাই হ‌য়ে যায় ।

ঘ‌রের ম‌ধ্যে জমা ঘোলা জ‌লে ভাসে শুক‌নো ফুল, মালা,পোড়ামাটির মালসা

ও আমার নাভী।

(২)

যে রাজবা‌ড়ির স্বপ্নটা আমি বারবার দে‌খি।

তার ঠাকুরদালানে কো‌নো প্র‌তিমা নেই,

প্রদীপ জ্বালায় না কেউ দু’‌বেলা।

শুধুই অন্ধকার । কো‌নো উৎসব হয় না ওখা‌নে।

(৩)

এলইডি বা‌ল্বটা নিভি‌য়ে দি‌য়ে এসো। এসো জ্বালাই নি‌জে‌দের আলো।

আলোর ম‌ধ্যে শরীর। শরীর ম‌ধ্যে স্বপ্নের নক্ষত্রপুঞ্জ ।

যে বিবস্ত্র জ্যোৎস্নাটা খে‌লে বেড়া‌চ্ছে গোটা বিছানা জু‌ড়ে

তা‌কে খেল‌তে দাও, বাধা দিও না।

অন্ধকা‌রের গা‌য়ে স্ব‌প্নের ঘ্রাণ লে‌গে থা‌কে।

‌তোমার শরী‌রের সুগ‌ন্ধের ম‌তো মো‌হময়।

প্র‌তি‌টি রা‌তই অপ্র‌তিম ও অদৃষ্টপূর্ব ম‌নে হয় আমার।

স্বপ্ন, শরীর, জ্যোৎস্না মাখামা‌খি হ‌য়ে গে‌লে যা‌বে।

(৪)

আলোর বাগান থে‌কে তু‌মি সুখ-ফুল তো‌লো বা‌রোমাস।

আ‌মি যে উতরাই ধরে ‌নে‌মে গে‌ছি তার শে‌ষে অন্ধকা‌রের জঙ্গল।

ফ্রেমে কাদা মাখা উলঙ্গ বাচ্ছাটার চো‌খে রু‌টির ঝলকা‌নি তোমার ‌

ডিএসএলআরের থে‌কে অনেক বে‌শি।

‌নোংরা প্লা‌স্টি‌কের ম‌তো ড্রে‌নের মু‌খে আট‌কে থাকা

জীবনটার কা‌ছে একটা নালার আনন্দ অনুপ‌মেয়।

হাত পা‌ল্টে পা‌ল্টে যারা মৃত্যু‌কে কো‌লে নি‌য়ে এগি‌য়ে যাচ্ছে অ‌বিরত।

তা‌দের লালন ক্ষমতা তু‌মি জা‌নো?

ওই চোখগু‌লোর দি‌কে তা‌কা‌লে দেখ‌তে পা‌বে,

সা‌রি সা‌রি স্ব‌প্নের কঙ্কাল মার্চ পাস্ট কর‌ছে গোটা মান‌চিত্র ধ‌রে।

ও‌দের গা‌য়ে গা ঘেঁ‌ষে থে‌কো না, ‌

তোমার আলো, ফুল, সুখ, যাপ‌নের স্বপ্নগু‌লো একে একে কঙ্কাল হ‌য়ে যা‌বে।

জমাট অন্ধকা‌রে তো তোমার ভীষণ ভয়।

(৫)

‌চিতার আগুন নি‌ভে গে‌লে, আধ পোড়া কাঠগু‌লোর

রক্তক্ষরা যৌবন থে‌কে ফিন‌কি দি‌য়ে উঠে আসে নিঃস্ব অন্ধকার।

চতুর্দি‌কে ছ‌ড়ি‌য়ে প‌ড়ে চাপ চাপ দুঃস্ব‌প্নের ম‌তো।

স্ব‌প্নে বাবা আসেন একমুখ গরম তাজা রক্ত নি‌য়ে।

বাবা প‌রে পিতামহ । পিতাম‌হের প‌রে সেই পয়সাওয়ালা লোকটা।

‌যে আমায় ব‌লে‌ছি‌লো । ‘তো‌দের শালা র‌ক্তেই দোষ’।

র‌ক্তে র‌ক্তে ভে‌সে যায় ঘ‌রের মে‌ঝে, দেওয়াল।

দেওয়া‌লে টাঙা‌নো মা লক্ষ্মীর ক্যা‌লেন্ডার।

আমি দু’হা‌তে গরম রক্ত কা‌চি‌য়ে তু‌লে ভা‌তের হা‌ড়ি‌তে ভ‌রে রা‌খি।

প‌রের স্ব‌প্নে একটু চাল য‌দি পাই, গরম র‌ক্তে ফু‌টি‌য়ে নে‌বো এই ভেবে।

(৬)

অষ্টম গর্ভ টর্ভ ওসব ছিনালী রা‌খো।

স্ব‌প্নের ভ্রূণগু‌লো‌কে জঠ‌রে হত্যা কর‌তে কর‌তে

শরীরটা বাঁজা হ‌য়ে গ্যা‌ছে।

(৭)

যে ক্ষুধার্ত স্বপ্নগু‌লোকে জ‌ড়ো ক‌রে রে‌খে ছিলাম

ঘ‌রের এক কো‌ণে,

তা‌দের গা‌য়ে এখন মৃত্যুর পুতিগন্ধ।

অগণন ম্যাগট থিক‌থিক কর‌ছে ঘরময়।

‌ইষ্ট‌দেবতা স্বপ্ন দি‌য়ে বল‌লেন এই নর‌কে তি‌নি আর থাক‌বেন না।

——————————-

:অমর্ত্য দত্ত

Published by B O I K A A L

লেখার স্বত্ব সম্পূর্ণভাবে লেখকের; কারোর থেকে অনুপ্রেরণা নিয়ে না অনুকরণ করে সে দায় বা দায়িত্বটি বইকাল ব্লগ নিতে অপারগ কেননা বিশ্বাস বস্তুটির ওপর ভর করে আমাদের পথ চলা শুরু; এটুকু আমাদের মার্জনা করা হবে আশা করি। যতিচিহ্ন সংক্রান্ত ব্যাপারে সম্পাদক কাজ করলেও লাইন স্পেশিং বা বানানের দায়ভার সম্পূর্ণ লেখকমন্ডলীর। ধন্যবাদ...❤

Leave a comment

Design a site like this with WordPress.com
Get started