ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ🍂…

নীলের বয়স তখন পাঁচ কী ছয়! ওর বাবা-মার মধ্যে প্রায়শ ই ঝগড়া হতো।এরপর একদিন ঝগড়ার তীব্রতা বেড়ে যায়। আর ওর মা ওকে আর ওর বাবাকে ছেড়ে চলে যায়। মা চলে যাবার পর নীল ওর বাবার সাথেই থাকত; ওর বাবার কাছেই থাকত। ক্রমশ অবহেলা আর মায়ের অভাব ওকে বদমেজাজি করে তুলেছিল।

মেয়েদের ওপর ওর রাগটা ক্রমশ বাড়তে থাকে। তাই সবাই ওকে এড়িয়ে চলতে শুরু করে। অনেকে আবার ভয়ও পেতো। কিন্তু সবাই তো আর এক হয়না। নীলের কলেজ জীবনে এমনই একটা মেয়ের সাথে পরিচয় হয় নীলের- যে ওকে ভয় পাওয়া তো দূরের কথা ওর রাগের দিকে তোয়াক্কাও করত না। বার কয়েক তো নীলের রেগে যাওয়া নিয়ে মজাও করেছে। নীল এতে আরও রেগে যেত। আর মেয়েটা খিলখিলিয়ে হাসত…

এতে নীল আরো রেগে গেলেও কিন্তু মেয়েটা ভারী অদ্ভূত ছিল; নীলকেও বার কয়েক হাসিয়ে ছেড়েছে। ধীরে ধীরে নীলের রাগ কমতে শুরু করে। ওর ভেতরে জমে থাকা অভিমানগুলো বরফের মতো গলতে শুরু করল।শেষমেষ ওরা দুজন ভালো বন্ধু হয়ে ওঠে। দেখতে দেখতে কলেজ জীবন শেষ হয়ে এল। কিন্তু ওদের বন্ধুত্বটা রয়েই যায়।একবার ওরা দুজন মিলে ঘুরতে গেছিল।সেখান থেকে তাড়াতাড়িই ফেরার কথা ছিল।কিন্তু রাস্তা খারাপ থাকায় দুজনে ফিরতে পারে না। তাই বাধ্য হয়ে ঐখানে একটা হোটেলে স্বামী স্ত্রীর পরিচয়ে রাত কাটিয়ে পরেরদিন ভোরে ফিরে আসে। কিন্তু মেয়েটির অজ্ঞাত এক পরিচিত কোনোভাবে এই ব্যাপারটা জেনে যায় এবং তার বাবা মাকে জানিয়ে দেয়।ফলে মেয়েটিকে অনেক কথা শুনতে হয়।সবশেষে নীলের সাথে তার বিয়ে হয়ে যায়। ততদিনে নীল অনেকটা শান্ত। আয়েশা এতে খুব রেগে যায়; হ্যাঁ মেয়েটির নাম আয়েশা ছিল! ও নীলকে মানতেই পারছিল না।কিন্তু নীল আয়েশাকে ভালোবেসে ফেলেছে।তাই ও ঠিক করে ভালোবাসা দিয়ে ও আয়েশার মনটা জয় করবে। তাই যা যা আয়েশার পছন্দ-নীল ঠিক তাই, তাই করত। কিন্তু আয়েশা যেন কিছুতেই রাজী হতেই চায়না।

এবার, তাই নীল বাধ্য হয়ে হাল ছেড়ে দেয়। ধীরে ধীরে তৈরি হয় দূরত্ব। দূরত্ব শেষে আয়েশা বুঝতে পারে ও বোধহয় নীলকে ভালোবেসে ফেলছে…

প্রাণপনে সেও সেদিন থেকে নীলের রাগ কমানোর চেষ্টা করে। কিন্তু নীল তো নাছোড়বান্দা! জেদি। তাই আয়েশা একদিন রীতিমত প্রচন্ড রেগে গিয়ে নীলের দিকে তেড়ে যায়। ঘরের জিনিস ছোঁড়াছুঁড়ি, ভাঙাভাঙি করতে থাকলে- এসব দেখে নীল নিজের জেদ ছেড়ে দেয়। ওর কাছে গিয়ে ওকে আটকায়, সামলায়। সত্যিই এতে নীলকে দু একটা মারও খেতে হয়েছিল সেদিন; তবু তো সেদিন দুজনের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝিটা মিটে গিয়েছিল!

শেষটায়, নীল আয়েশাকে বুকের মধ্যে জড়িয়ে নেয়। ধীরে ধীরে আয়েশার রাগটাও কমে। এভাবেই ওদের দুজনের মত সব সম্পর্কই আবার নতুন জীবনের দিকে, অন্ধকার শেষ করে পা বাড়াক।

আসলে, রাগই তো হল প্রকৃত ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ!

প্রজ্ঞা চক্রবর্তী। কলকাতা।

Published by B O I K A A L

লেখার স্বত্ব সম্পূর্ণভাবে লেখকের; কারোর থেকে অনুপ্রেরণা নিয়ে না অনুকরণ করে সে দায় বা দায়িত্বটি বইকাল ব্লগ নিতে অপারগ কেননা বিশ্বাস বস্তুটির ওপর ভর করে আমাদের পথ চলা শুরু; এটুকু আমাদের মার্জনা করা হবে আশা করি। যতিচিহ্ন সংক্রান্ত ব্যাপারে সম্পাদক কাজ করলেও লাইন স্পেশিং বা বানানের দায়ভার সম্পূর্ণ লেখকমন্ডলীর। ধন্যবাদ...❤

Leave a comment

Design a site like this with WordPress.com
Get started