(১)
ভালোবাসা
***********
ভালবাসা,নতজানু হতে শেখ
প্রেমিকার কাছে নয়
প্রেমিকের বলিষ্ঠ আলিঙ্গনের কাছে নয়
নীলচে পাহাড় আর গালচে ঘাসের ওপর
নতজানু হও! ক্ষমার কাছে!
বুক পেতে স্পর্শ কর শান্তির ওম্,
ভালবাসা, নতজানু হতে শেখ!
ভালবাসা, মুক্তি দিতে শেখ!
(২)
চুম্বন
******
বিষাদবৃক্ষ জড়িয়ে বুকে
আজন্মকাল পথ খুঁজেছি
হাত ছাড়িয়ে ঠোঁটে নাগাল
পাওয়ার আগেই হই বেসামাল
চাঁদের গায়ে চাঁদ লেগেছে দেখি!
আজন্মকাল ঠোঁটের ডানায়
ভর করেছি বলার সময়
আজন্মকাল ঠোঁটের মায়ায়
জড়িয়ে আছি মাতাল হাওয়ায়
এইতো থাকা, এইতো খুঁজে যাওয়া
চাএর দোকান, পাড়ার মোড়ে
নিরজন পথ, দেমাক ছুঁড়ে
বিনোদবেণীর রাইকিশোরী চলে..
আজন্মকাল সময় জলে,
ঠোঁটের ডগায় আগুন জ্বেলে
বির্সজনই বৃক্ষতলে!
বিষাদঘোরের প্রণয়কালে।
(৩)
ভ্যালেন্টাইন্স ডে
****************
যে বারান্দাটুকুই ছুঁয়ে গেছে
ফেরারী আলোর রেখা শুধু,
তাদের প্রতিটি কণাই
ফিসফিস করে বলে ‘ভালোবাসি’
যে চোখে দৃষ্টি নেই ! অতল আঁধার
তার কাঁধ ছুঁয়ে উদাসী বাতাস এসে
ফিসফিস করে বলে ‘আলিঙ্গন’
যে মনে মনে পাথর হয়েছে কবেই
তার রক্তধারায় তবু আঙুল বুলিয়ে
ফিসফিস করে বলে ‘চুম্বন’
যে প্রবল শৈত্যের কাছে জড়োসড়ো
স্পর্শে জাগেনা কোন পরকীয়া প্রবৃত্তি,
তার কাছে নতজানু প্রতিটি অক্ষর
ফিসফিস করে বলে ‘ক্ষমা’ !
(৪)
ফাগুন হাওয়ায় হাওয়ায়
***********************
আমিও চাইনি তুমিও না
অনর্থক এ দেওয়া নেওয়া
তাই তো আজকে পয়লা ফাগুন
নিজের হাতে আগল খুলে দেওয়া।
গোলাপ যত বাজার জুড়ে
করলে জড়ো খামখেয়ালে
কাটল ঘুড়ি পাল্লাছুটে,
লাগল হাওয়া তোমার পালে।
লগনচাঁদা সন্ধেবেলা
রঙিন আলো জলতরঙ্গ
ফুলের ভেলায় সপ্তপদী
অসূয়া ভরা অন্তরঙ্গ।
খুললে মুঠি, মিলল ছুটি
ফাগুন হাওয়ায় হাওয়ায়
চোখের মধ্যে শিশিরবিন্দু
সর্বনাশের আশায়।

: শ্যামাপ্রসাদ সরকার
অওয়ধপুরী, ভোপাল।