শুধু ঘটে আর নিরাকারে মন গলে না আর
কৃষ্ণানন্দ চাইলো তখন তোমার চমৎকার
নবদ্বীপে ভরা তখন কৃষ্ণ কৃষ্ণ ডাক
মাতৃনাম শুনলে বলে,”ম্লেচ্ছ, নিপাত যা”
প্রত্যেক দিন মহেশের পো, দাওয়ায় বসে কাঁদে
বলে, “মাগো,গালি গালাজে প্রাণ টা নাহি বাঁচে”
একদিন যায় দুইদিন যায়, তিন দিন হয় পার
কবে আমার মায়ের সে রূপ পাবে মাটির আকার?
কৃষ্ণানন্দ বিভোর হয়ে,কাতর ভাবে বলে,
এবার দয়া করো তারিণী, মাতৃ শক্তি বলে-এমন সময় বিষম গরজে আকাশবানী হলো
“একটি মেয়ে কে দেখতে পাবে এখুনি এগিয়ে চলো”
কোথায় যাবো?কোথায় পাবো?মেয়ে দেখে কি হবে?
কৃষ্ণানন্দ বড় অশান্ত প্রশ্ন করলো যবে
আবার গরজে আকাশবানী গম্ভীর অতি ঘোর,
“ওর মুর্খ এত কথায় কাজ কি আছে তোর?
মা যে আছেন সবার মাঝে ভুলে গেলি কি ভাবে?””ভুল হয়ে গেছে” কৃষ্ণানন্দ বলে সলজ্জ ভাবে।আকাশবানী ইষৎ হাসিয়ে আবার কহিল,” ওরে,মায়ের যে রূপ বাঁধা পড়ে আছে তোর মনের ওই ঘরে।
সেই রূপ যে আজ প্রতি ঘরে পৌঁছে দিতে হবে
বৃহৎ তন্ত্রসার গ্রন্থ তোকেই লিখতে হবে”আকাশবানীর আদেশ শুনে ভোরের আলোর আগেই
কৃষ্ণানন্দ নবদ্বীপের অলিতে গলিতে ছোটে।
কোথায় কালী? কোথায় সে মেয়ে?? কোথায় সে রূপ হেরি
আমি কেবলই পথে পথে ঘুরেঘুরেই মরি
আক্ষেপ করে কৃষ্ণানন্দ এমন সময় দেখে
দূরে ওই কুটিরের পাশে মেয়ে মানুষই বটে!!!!ছুটে আসে কাছে দেখে কালো মেয়ে খোলা চুল অতি ঘোর
সিঁদুরে লেপা কপাল আর হাতে এক তাল গোবর
ঘুটের জন্য করে তোড় জোড় তাকে দেখে সে হাসে
মুখ টিপে বলে, ” তুই ছুটেছিলি দেখা পাওয়ার আশে?”
কৃষ্ণানন্দ কাতরে বলে, “মা গো অন্তর্জামী”
মা হেসে বলে, ” বড্ড রে তোর বেড়েছে ফাজলামি”
” আমি যে জগৎ বিশ্বব্যাপী,সবই আমার রূপ,তবুও তুই কেন গড়বি রে ব্যাটা আমার মাটির রূপ”
কৃষ্ণানন্দ নিবিড় চিত্তে বসলে পায়ের কাছে, বলে সবিনয়ে তার নিবেদন মায়ের কাছে এসে,
“জগতে তোমার এত ব্যাটা বেটি সবাই তোমাকে চায় চিন্ময়ী বা মৃণ্ময়ী তারা কোনো রূপেই না পায়
তব শ্রী চরণ ভরসার তরী ঘটে তো চরণ নাই,
কি করে তবে বিনা চরণে বৈতরণি বাই??
তাদের জন্য, সবার জন্য মৃন্ময়ী রূপ ধরো,
দক্ষিণাকালী রূপে মাগো তুমি আত্মপ্রকাশ করো”ছেলের কাতর প্রার্থনা শুনে মন গলল, মা’র
কৃষ্ণানন্দ হাতেই মাতৃমূর্তি পেলো আকার
দক্ষিণাকালী পূজা সেই থেকে চালু হলো এই ভাবে
কৃষ্ণানন্দ “আগমবাগীশ” প্রসিদ্ধ হলো ভবে।।
: অনির্বাণ আচার্য
ঠিকানা : তীর্থনীড় এপার্টমেণ্ট, কৃষ্ণকালীতলা,মালদহ, পিন -৭৩২১০১