(১)
ঘুম
ডিনারে মাংস-রুটি, বেশ !
তোমার হাতে মাংসের ঝোল আমার বরাবরই প্রিয় ।
খেতে খেতে টিভিতে দেখছি,
চারিদিকে ছড়িয়ে রয়েছে বিক্ষত মৃতদেহ ।
চাপ চাপ শুকনো রক্ত, ঠান্ডা রক্ত ।
রক্ত রক্ত রক্ত…..
আমি গরম ঝোলের বাটিতে রুটির টুকরো চুবিয়ে তুলে নিচ্ছি মুখে ।
আহ ! কি অতুলনীয় স্বাদ ।
আমার ডাইনিংই টেবিল থেকে বিছানা অবধি রেল লাইন পাতা ।
নিশ্চিন্তে ঘুম হবে আজকে ।
(২)
ঘর
না, আমি এই দ্বৈধতায় থাকতে চাইনি কোনোদিন ।
যেখানে বাঁচার আনন্দের কাঁধে চড়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে মৃত্যুর ভয় ।
ঘুরে বেড়াচ্ছে এ’পাড়া থেকে ও’পাড়া ।
এ’বাড়ি থেকে ও’বাড়ি ।
আমার ঘরের দরজায় নক্ করলে,
দরজা খুলে দিয়ে বলবো;
যে কোনো একজন প্লিজ্ ।
ঘরটা আমার তাই বলারও অধিকার আছে ।
(৩)
পার্থিব
শরীর বেয়ে নিচে নেমে যায় যে কৃষ্ণচূড়ার শিকড় ।
তাকে আমি অপার্থিব বলে মেনেছি ।
মৃত ময়নার ঠোঁটের হরবলা মতো স্মৃতি গুলো
একে অপরের দোষ আওড়ায় খাঁচার মধ্যে থেকে ।
পৃথিবীর অভিশাপ ছুঁয়ে থাকা হাতের তালুর সাথে
নিবীড় সম্পর্ক গড়ে ওঠে মেরুদন্ডের ।
নিজেদের অজান্তে তারা একে অপরকে
ভালোবেসে ফেলে কোনো এক আমিশ রাতে ।
বৈধতার কোনো ভিত্তি হয় না তাই ।
দেওয়ালে পিঠ ঠেকা প্রদগ্ধ দু’চোখ
ছ’তলার বারান্দা থেকে ঝাঁপ দেয় অতর্কিতে ।
শুধু অন্ধকার জানে হত্যা না আত্মহত্যা ।
বহুকাল ধরে নীরবতার আস্তরণে ঢেকে থাকা
পাঁজড়ের পলেস্তরা খসে বেড়িয়ে আসে অবসাদের নোনা ধরা ইট ।
ক্ষুধার্ত বেড়ালের মুখে অক্ষম পায়রার মরণোন্মুখ দেহ
চিলেকোঠার জীর্ণ কার্নিশ বেয়ে মিলিয়ে যায় অন্তরালে ।
ঝরে যাওয়া কিছু পালকে ভর করে
জীজিবিষা নেমে আসে মাটিতে শরীরে ।
প্রতিটা পায়ের চিহ্নে লেগে থাকে
অদৃশ্য বিষাদের মহাকর্ষীয় টান ।
আমার এইটুকুই পার্থিব বলে মনে হয় ।

নাম : – অমর্ত্য দত্ত
ঠিকানা :- ১৪/ডি, হালদার লেন, বৌবাজার,
কলিকাতা- ৭০০০১২