চুপকথা নাড়ে বুক, শুনশান রাতে, জেগে থাকে বাতিঘর, স্তব্ধ শুন্য পথে। খুনসুটি কোলাহল, একাকী পথেই সুখ, নীরবতা সারারাত, এ নয় কোনো অসুখ। উন্মাদে ভাঙে পাড়, জল ভাসে প্লাবনে, সোহাগ শীতল রাত, ভরাডুবি হয় মনে। অভিমানি মন তবু, করে আলোর খোঁজ, আকাশের তারাগুলো, আমলকি হয় রোজ। দৃষ্টি ঝাপসা হয়, একা মনের জ্বরে, পথ দেয় হাতছানি, হারিয়েContinue reading “ভাঙা মন্তাজ”
Category Archives: writing
উপন্যাস
জীবন-দর্শন জীবনদর্শন সম্পর্কে আমি আজীবন খুবই উদাসীন। জীবনের দর্শন ঠিক কি হওয়া উচিত সে ব্যাপারে আমি কোনো কালেই মাথা ঘামাইনি। জীবন আমাকে যা দিয়েছে সেটাই ঈশ্বরের বিধান বলে মেনে নিয়েছি। জীবন যা নিয়ে নিয়েছে বা আমি যা হারিয়েছি তা আমার কোন কালেই ছিল না বলে মান্যতা দিয়েছি। এই চিন্তাধারায় এক অদ্ভুত শান্তি আছে। কারণ জীবনেরContinue reading “উপন্যাস”
।গুচ্ছকবিতা।
(১) ঘুম ডিনারে মাংস-রুটি, বেশ ! তোমার হাতে মাংসের ঝোল আমার বরাবরই প্রিয় । খেতে খেতে টিভিতে দেখছি, চারিদিকে ছড়িয়ে রয়েছে বিক্ষত মৃতদেহ । চাপ চাপ শুকনো রক্ত, ঠান্ডা রক্ত । রক্ত রক্ত রক্ত….. আমি গরম ঝোলের বাটিতে রুটির টুকরো চুবিয়ে তুলে নিচ্ছি মুখে । আহ ! কি অতুলনীয় স্বাদ । আমার ডাইনিংই টেবিল থেকেContinue reading “।গুচ্ছকবিতা।”
আয় বৃষ্টি ঝেঁপে
বিনা মেঘে বজ্রপাত? বিনা মেঘে বৃষ্টিপাত? কিন্তু মেঘ তো আকাশে রয়েছে। একদম সকালে অবশ্য ছিল না। ভোরের সূর্যটা দিব্বি ঘুম থেকে উঠে প্রাতঃকৃত্য করেছে। হয়ত চা-বিস্কুটও খেয়ে থাকবে। কিন্তু চা-বিস্কুট খাওয়ার সময় পায় নি অনুব্রত। পায় নি তার বৌ পৃথা। এমন কী দুধ দিয়ে কর্ণ ফ্লেক্স খাওয়াও হল না ওদের ছোট্ট ছেলে বুম্বারও। বাবার জন্যেContinue reading “আয় বৃষ্টি ঝেঁপে “
হেঁটে আসা পথটুকু
যেটুকু সময় চুপ করে বসে থাকা, সেইটুকুই সময় যেন ছুটে বেড়ানোর। ছুটে যাই সেই পথে, যেই পথে যাওয়ার ইচ্ছে প্রবল। আজ আর কোন বাঁধা নেই। এইতো সময় নিজের কাছে আরো কিছুটা এগিয়ে আসার। বসে আছি। তবুও যেন হেঁটে যাচ্ছি সেই পথে, যেই পথ চিনে নিতে চেয়েছিলাম জন্মের পর। এই পথ আমার জানা নেই। এযাবৎ যতContinue reading “হেঁটে আসা পথটুকু”
পাস-বই
রাত বেশ গভীর। আকাশে একটাও তারা নেই। চাঁদ মুখ ঢেকেছে অমাবস্যার কোলে। বাড়ির সামনে স্ট্রিট লাইটদুটো অন্ধ হয়ে পড়ে রয়েছে। পাশের গুহ বাবুর বাড়ির দোতলার বাতিও এইমাত্র নিভে গেল। দূরে কোথায় একটা কুকুর কেঁউকেঁউ করে ডেকে উঠলো। নাকি কেঁদে উঠলো বোঝা গেল না। আবার সব চুপচাপ। গাঢ় অন্ধকার আর গভীর নিঃস্তব্ধতায় যেন ডুবে গিয়েছে চারিপাশ!Continue reading “পাস-বই”
একদিনের কবিতা
হাজার বছর আগেও আমরা বলেছিলাম ‘একদিন ঠিক আসবে।’ একশো বছর আগেও আমরা বলতাম ‘দেখে নিও একদিন ঠিক আসবে।’ শতবর্ষ পরেও আজও আমরা বলি ‘আসবে আসবে, একদিন ঠিক আসবে। ‘ আমরা হাজার বছর অপেক্ষা করেছি আমরা একশো বছর অপেক্ষায় ছিলাম আমরা আজও অপেক্ষায় আছি একদিন কি এসেছে? একদিন কি আসেনি? একদিন কি আমাদের পাশ দিয়ে চলেContinue reading “একদিনের কবিতা”
মায়ের মূর্তি
শুধু ঘটে আর নিরাকারে মন গলে না আরকৃষ্ণানন্দ চাইলো তখন তোমার চমৎকারনবদ্বীপে ভরা তখন কৃষ্ণ কৃষ্ণ ডাকমাতৃনাম শুনলে বলে,”ম্লেচ্ছ, নিপাত যা”প্রত্যেক দিন মহেশের পো, দাওয়ায় বসে কাঁদেবলে, “মাগো,গালি গালাজে প্রাণ টা নাহি বাঁচে”একদিন যায় দুইদিন যায়, তিন দিন হয় পারকবে আমার মায়ের সে রূপ পাবে মাটির আকার?কৃষ্ণানন্দ বিভোর হয়ে,কাতর ভাবে বলে,এবার দয়া করো তারিণী, মাতৃContinue reading “মায়ের মূর্তি”
স্মৃতি পত্র…
বাবা, অনেকদিন ধরে ভাবছি তোমাকে একটা চিঠি লিখবো। কিন্তু লেখা হয়ে ওঠে না। চাকরি করতে রাজ্যের বাইরে চলে এসেছি। বেশিরভাগ সময়ই মায়ের সঙ্গে ফোনে কথা হয়। তোমার সঙ্গে তেমন কথা হয় না। মুঠোফোনের ব্যবহারটা তুমি সেভাবে পারো না। আবার ফোন ধরিয়ে দিলে ফোনে বেশিক্ষণ কথা বলতেও তুমি অভ্যস্ত নও। শৈশব থেকে তোমার সঙ্গে কথা খুবContinue reading “স্মৃতি পত্র…”
কবরে রাজপ্রাসাদ
করিডর ভেঙে দেখছে শালিক কচু পাতায় সামান্য জল, একটা ইঁদুর হেটে চলে গেল পাখির কিচিরমিচির অনর্গল। বট গাছটা করছে চুম্বন ইটের শরীর ঘিরছে প্রায়, স্নানঘরে রাজার বাথটব শুয়ে অহংকার সে তো অভ্যাসের দায়। আঁকশিটাও আছে একই রকম ঝাড়বাতিগুলো মিউজিয়ামে, কার্নিশটা আজ হয়েছে হাসপাতালে পাখির জন্ম হয় সেখানে। বেশ তো ছিলো সব হারিয়ে বটবৃক্ষকে সঙ্গী করে,Continue reading “কবরে রাজপ্রাসাদ”