প্রাতঃভ্রমণ

বাড়ির পুরনো দেওয়াল ঘড়ি টায় ঢং ঢং করে চারটের ঘন্টা বাজল। কৃষ্ণকান্ত বাবু অভ্যাসমতো বিছানা ছেড়ে উঠে পড়লেন। তখনো ভোরের আলো ভালো করে ফুটে উঠতে পারেনি। প্রত্যেক দিনের অভ্যাস মত কৃষ্ণকান্ত বাবু ভোরবেলা  উঠে প্রথমে  যান বাড়ির পিছনে কামিনী ফুলের বাগানে। কৃষ্ণকান্ত বাবু কামিনী ফুল বড়ই ভালোবাসেন, যার দৌলতে তিনি তার বাড়ি নামও রেখেছেন কামিনী।Continue reading “প্রাতঃভ্রমণ”

চুপ

প্রেম পেলে আসিস আমার কাছে,বসিস আমার পাশে,দেখিস আমার দিকেবলিস না কোন কথা।কথা বলবে রুপ, আমারা তাকিয়ে থাকবো অযথা। পড়িস চোখে কাজলছোট্ট একটা কালো টিপআর তোর সেই, ওই শাড়িটা লালচে কালো ডিপ,ঘুরবি যখন পিছন আমি দেখব তোর খোলা পিঠ,তুই চুপ করে বসিস, বলিস না কোন কথা,বলতে গেলে প্রেম হবে না, শব্দ হবে অযথা। দেখিস আশেপাশে ফাঁকাContinue reading “চুপ”

চলার পথে…

এক স্টেশন থেকে আরেক স্টেশনের দূরত্বে চলে তাদের পরিপাটির সাম্রাজ‍্য… দলে আছে কমবয়সী থেকে বয়স্ক সকলেই! এক-একজনের জীবনের এক-এক ধরনের বিচিত্র কাহিনি কান পাতলেই শোনা যায়! সাজগোজ? পরনে রঙচটা, ছেঁড়া শাড়ি- ব্লাউজ, আঁচল কোমড়ে গোঁজা, হাতখোঁপাতে কোনো পরিপাট‍্য নেই, কারো বা কপালে সিঁদুরের আভা; অধিকাংশই প্রচন্ড শীর্ণ, দেখলেই বোঝা যায়, অসম্ভব মনের জোরই এগিয়ে নিয়েContinue reading “চলার পথে…”

পৃথিবীর ও একটা মন রয়েছে…

পৃথিবীর ও একটা মন রয়েছেআর মানুষ গর্ববোধে শূন্য হয়ে য়ায় রক্তশূন্য সূর্যের আলোয় আমরা বই পড়ছিধর্মগ্রন্থ নয়সাদা কাগজচোখের কুয়াশার জন্য ঝাপসা দেখছি দিগন্তআর এ পর্যন্ত আমাদের সব বর্ণনা জলের মতোজলেও প্রাণ আছেযেভাবে আমরা বেঁচেছিলাম অনেক বছর ফাঁকা মাঠের গোড়ালি থেকে ভেসে আসছে গরুর গাড়ির গানআর মাটির চাকার ঘর্ষণে জেগে উঠছে আকাশনক্ষত্রের পাল তাড়া করছেএমন বিপদসংকুলContinue reading “পৃথিবীর ও একটা মন রয়েছে…”

”টপিক; শ্রমিক”

পরিযায়ী শ্রমিক।এরা এখন মিডিয়া বাজারে হট টপিক;লকডাউনে কিভাবে কষ্ট করে বাড়ি ফিরছে, খেতে পাচ্ছেনা আরো কত কি!সোস্যাল মিডিয়াতেও এদের নিয়ে দুঃখের স্রোতে ভাসমান। আমিও দুঃখ পাচ্ছি। নানা কবিতা আর্টিকেল আরো কত কি সব কিছুর প্রধান আকর্ষণ বা কেন্দ্রবিন্দু এখন এনারা।বাহ! সত্যি, মানুষ এদের নিয়ে ভাবচ্ছে, কিন্তু একটা প্রশ্ন ??ভীষণ ভাবাচ্ছে আমাকে ব্যক্তিগত ভাবে- এই শ্রমিকরাContinue reading “”টপিক; শ্রমিক””

।। আশ্বস্ত হও ।।

ঝিলমিল রোদ গাছেদূর হতে পাখিদের ডাক আসেপাখিটাও বুঝি আজ রয়েছে উপোস মৌমাছিটাও যেন এসে আঙ্গিনায় চাইছে খোরপোষ তোমরা যে বলছো- পৃথিবীটার সব শেষ হয়ে গেছেতা আসলে ঠিক নয়;এই বিশ্বযুদ্ধ একদিন থামবে নিশ্চয়,হতাশার বাতাস দিয়ে আশার আলোটা ফেলোনা নিভিয়েহে বিশ্ববাসী, লেগেছে যে গ্রহণ এ বিশ্বের গায়েছুটে চলেছে আগুনের দুরন্ত গতি মানুষের পায়ে পায়ে দড়ি দিয়ে সংক্রমণকেContinue reading “।। আশ্বস্ত হও ।।”

অপেক্ষা

বৃষ্টি আর মেঘের প্রেম শুরু হয় ফিজিক্স ব্যাচের এক সন্ধ্যায়। দু-জনেই বাড়িতে জানায় নিজেদের সম্পর্ক আর ভালবাসার কথা। কিন্তু, দু-জনের মায়েরাই বলেন, “আগে নিজের পায়ে দাঁড়াও তারপর এক অপরের দায়িত্ব নিও।” একদিন দুদিন করে দশ-বছর কেটে গেল। আজ মেঘ একজন প্রতিষ্ঠিত ডাক্তার আর বৃষ্টি একটি নাম করা মাল্টি ন্যাশানাল কোম্পানিতে চাকরীরতা। এক সন্ধ্যেবেলায় মেঘ, বৃষ্টিরContinue reading “অপেক্ষা”

ভিতর বাড়ীর দু’চার কথা

আগলে রাখার দায়িত্বটা তোমার হোকরাগলে আমার আগুন মাথার ঠিক থাকে নাজানোই তো শব্দ চাষা ফালতু লোকমেঘের বুকে জলের রঙে ফুল আঁকে না যদিও প্রেম বিগড়ে যাবে তেমন নয়কষ্ট এবং প্রেমটা মেখে ঘর করিমুসাফিরের রাস্তা চলা যেমন হয়সিঁদুরে মেঘ দেখলে তাকে গড় করি কাঁধের ঝোলায় উপচে পড়ে স্বপ্ন দোষলজ্জাশীলের ফাঁদের ভিতর গভীর গিঁটকেউ ভাবে না চৌকাঠেইContinue reading “ভিতর বাড়ীর দু’চার কথা”

রক্তকরবী…🌺

মূল নর্মদা মন্দির থেকে দক্ষিণ দিকে প্রায় চার কিমি দূরত্বে আছে ধূনিপানি। গাড়ি করে আমরা এগোলাম। নখটির জঙ্গলে এসে নামলাম। আসলে ধূনিপানি আর ভৃগুকমন্ডলু যেতে নখটির জঙ্গলের মধ্যে দিয়ে বেশ খানিকটা হাঁটতে হয়। আমরা কোন রকমের গাড়ি চালিয়ে যেতে লাগলাম, জঙ্গলের রাস্তা তাই গাইড জরুরি, নাহলে পথ হারানোর সম্ভাবনা প্রবল। জঙ্গলের রাস্তা অতি মনোরম, এডভাঞ্চারাস তোContinue reading “রক্তকরবী…🌺”

পাজি ট্যাক্সিওয়ালা

ধর্মতলা যাব বলে ট্যাক্সিতে চেপেছিলুম সিঁথির মোড় থেকে। কি কুক্ষণেই না সেদিন, সেই ট্যাক্সিওয়ালাটা আমার ডাকে সাড়া দিয়েছিল, কে জানে ! ট্যাক্সিতে ওঠার পরেই শুরু হল সেই অবাঙালী ট্যাক্সিওয়ালার উৎপাত। প্রথমেই আমাকে দু’তিনটে ওষুধের স্ট্রিপ ধরিয়ে দিয়ে বলল, ‘দেখিয়ে তো, ইসব কিসকা দাওয়াই হে ? দর্দ কম হোবে?’ আমি দেখেটেখে কিছুই বুঝতে পারলুম না ।বললুমContinue reading “পাজি ট্যাক্সিওয়ালা”

Design a site like this with WordPress.com
Get started